ঘরোয়া লিগের দুর্দান্ত ছন্দ এবার ইউরোপের মঞ্চেও ধরে রাখল বার্সেলোনা। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচেই ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ জয় পেয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। ক্যাম্প ন্যুতে স্বাগতিকদের হয়ে জোড়া গোল করেছেন অধিনায়ক রাফিনিয়া। একটি করে গোল করেছেন করিম আদেয়েমি, লামিনে ইয়ামাল ও বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল জেসুস।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফেইনুর্ডের ওপর চড়াও হয় বার্সেলোনা। মাত্র তৃতীয় মিনিটেই লামিনে ইয়ামালের বাড়ানো বল নিয়ে বক্সে ঢুকে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনিয়া। এরপর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় কাতালান ক্লাবটি। ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বার্সেলোনার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন করিম আদেয়েমি। প্রথমার্ধে জোয়াও কানসেলোর জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসায় আরও একটি গোল থেকে বঞ্চিত হয় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফেইনুর্ড। তবে বার্সেলোনার আক্রমণের সামনে সেই চেষ্টা বেশিক্ষণ টেকেনি। মাঝমাঠ থেকে পেদ্রির অসাধারণ পাস পেয়ে ঠান্ডা মাথায় নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল করেন রাফিনিয়া। কিছুক্ষণ পর ফেইনুর্ডের নাচো ফেরি একটি গোল করলেও ভিডিও পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় সেটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে রক্ষণভাগ ভেদ করে নিচু ফ্রি-কিকে বার্সেলোনার চতুর্থ গোলটি করেন লামিনে ইয়ামাল।
ফেইনুর্ডের হয়ে গনসালো বোর্জেসের পাস থেকে একটি গোল শোধ করেন সেম স্টেইন। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মাত্র দুই মিনিট মাঠে থেকেই আলো ছড়ান বার্সেলোনার নতুন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুস। দারুণ এক হেডে দলের পঞ্চম গোলটি করেন তিনি। এই ম্যাচে ফেইনুর্ডের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেক হয়েছে ১৯ বছর বয়সী শাকিল ফন পার্সির। মজার ব্যাপার হলো, তাঁর বাবা ও সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড রবিন ফন পার্সিও ২০০২ সালে ১৯ বছর বয়সে ফেইনুর্ডের হয়ে এই প্রতিযোগিতায় অভিষেক করেছিলেন। চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার দুর্দান্ত গোল করার ধারাও অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের চারটিতেই অন্তত পাঁচ গোল করেছে তারা। আর ২০২৪-২৫ মৌসুমের শুরু থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার দিক থেকে রাফিনিয়া এখন হ্যারি কেইনের পর দ্বিতীয় স্থানে।