গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে প্রায় দেড় বছর আগে চুরি হয়ে যাওয়া দুটি ডোরাকাটা লেজের লেমুরের সন্ধান মিলেছে ভারতে।

গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি যাওয়া লেমুর ভারতে পাচার হলো কীভাবে

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময় , আপডেট সময় : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময়

গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে প্রায় দেড় বছর আগে চুরি হয়ে যাওয়া দুটি ডোরাকাটা লেজের লেমুরের সন্ধান মিলেছে ভারতে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, একাধিক হাত বদলের পর বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী দুটি ভারতের গুজরাতের একটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পৌঁছেছে।


লেমুর দুটি দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন দেখা দিয়েছে জটিলতা। কারণ, প্রাণী দুটি যে বাংলাদেশ থেকেই ভারতে পাচার হয়েছে, সেটি প্রমাণ করার মতো প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে পর্যাপ্ত নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর প্রমাণ হতে পারে লেমুরগুলোর জেনেটিক পরিচয় বা ডিএনএ পরীক্ষার ফল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, প্রাণীগুলোর আগের জেনেটিক তথ্যের সঙ্গে নতুন করে করা পরীক্ষার ফল মিলিয়ে দেখলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব।


কিন্তু গাজীপুর সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, চুরি হয়ে যাওয়া দুই লেমুরের কোনো ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন তাদের কাছে নেই। তবে একই পরিবারের আরেকটি লেমুরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই পরীক্ষার ফল পাওয়া গেলে চুরি হওয়া দুই লেমুরের সঙ্গে জেনেটিক সম্পর্ক যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে। ডোরাকাটা লেজের লেমুর বাংলাদেশের স্থানীয় প্রাণী নয়। এদের আদি নিবাস আফ্রিকার মাদাগাস্কার দ্বীপ। অবৈধভাবে ধরে বিভিন্ন দেশে পাচারের কারণে এই প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়েছে।


২০১৮ সালে বিদেশি পশু-পাখির একটি অবৈধ চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছিল। সেই চালানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির পাশাপাশি এক জোড়া ডোরাকাটা লেজের লেমুরও উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো গাজীপুর সাফারি পার্কে রাখা হয়। ওই জোড়া লেমুরের ঘরে পরবর্তীতে আরও দুটি বাচ্চা জন্ম নেয়। ২০২২ সালের শুরুতে একটি লেমুর মারা যায়। এরপর ২০২৫ সালের মার্চে সাফারি পার্ক থেকে বাকি তিনটি লেমুরই চুরি হয়ে যায়।


সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমানের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীদের একজনের সহযোগিতায় একটি চক্র লেমুরগুলো চুরি করে। পরে ওই কর্মীসহ চক্রটির আট সদস্যের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রায় এক মাসের মধ্যে ঢাকার একটি বাসা থেকে তিনটি লেমুরের একটি উদ্ধার করা হয়। তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বাকি দুটি লেমুর ভারতে পাচার করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে প্রাণী দুটি ভারতে প্রবেশ করে বলে তদন্তকারীদের কাছে তথ্য দেয় তারা।


উদ্ধার হওয়া লেমুরটিকে পরে গাজীপুর সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু কয়েক মাস পর সেটিও মারা যায়। দীর্ঘদিন একা থাকার কারণেই প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন পার্কের কর্মকর্তারা। কারণ, লেমুর সাধারণত দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। এদিকে, পাচার হওয়া দুই লেমুরের সন্ধানে তদন্ত চালিয়ে একপর্যায়ে সিআইডি জানতে পারে, প্রাণী দুটি ভারতে একাধিক হাত বদলের পর গুজরাতের একটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পৌঁছেছে।


কেন্দ্রটির নাম ভান্তারা। এর মালিকানা ভারতের আম্বানি পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানিয়েছে সিআইডি। তথ্যটি যাচাই করতে তদন্তকারীরা প্রাণী দুটির ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে বেশ কয়েকটি লেমুরের সঙ্গে চুরি যাওয়া দুই লেমুরের উপস্থিতির বিষয়ে ধারণা পান তারা।


ভিডিওটি সাফারি পার্কের কর্মকর্তাদের দেখানো হলে তারা প্রাণী দুটিকে বাংলাদেশ থেকে চুরি হওয়া লেমুর হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন। কারণ, তারা প্রাণীগুলোকে দীর্ঘদিন সরাসরি দেখেছেন। এরপর বাংলাদেশ পুলিশ প্রাণী দুটি দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার সহযোগিতা চায়। কিন্তু এ সময় ভারতের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রমাণ চাওয়া হলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে তদন্তকারীরা। কারণ, ছবি ও ভিডিও ছাড়া চুরি হওয়া লেমুর দুটির বাংলাদেশি পরিচয় প্রমাণের মতো শক্ত নথি নেই।


সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগে এ ধরনের পাচারের ঘটনা না ঘটায় লেমুরগুলোর জেনেটিক পরিচয় সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি। পাশাপাশি সে সময় এ ধরনের পরীক্ষা করার সক্ষমতাও তাদের ছিল না। তবে বর্তমানে জীবিত থাকা একই পরিবারের লেমুরের নমুনা সংগ্রহ করে জেনেটিক পরিচয় নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে এলে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে ভারতের লেমুরগুলোর সঙ্গে জেনেটিক তথ্য মিলিয়ে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে।


দুটি লেমুরকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই জেনেটিক পরীক্ষাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে। তবে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রাণী দুটির প্রকৃত পরিচয় এবং বাংলাদেশ থেকে পাচারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা কঠিন। এ বিষয়ে ভান্তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯