পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের উত্থাপিত প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মীর আহমদ বিন কাসেম তার বক্তব্যে বেনজীর আহমেদ সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন বলে উল্লেখ করেন। এর সংশোধন করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এমন তথ্য দেওয়া হলেও দূতাবাসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদ সেখানেই অবস্থান করছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের দূতাবাস দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বেনজীর আহমেদের ওপর নজর রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সক্রিয় দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে পৃথক ঘটনায় বিশেষ বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তাই কূটনৈতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কাজ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, যাতে বিশেষ বিবেচনায় বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় নেওয়া যায়। এ সময় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করার কথাও জানান তিনি।
মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় তিনি যে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তা অত্যন্ত ভয়াবহ। তাকে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে নয়, একজন বিরোধীদলীয় কর্মী হিসেবে দেখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গও সংসদে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় নেওয়া হবে বলেও সংসদে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।