চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামে রাস্তার ওপর ময়লা ফেলার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে চারজনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় নতুনপাড়া গ্রামের একটি রাস্তার ওপর ময়লা ফেলা নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মনির, নাজিমুদ্দিন, হাশেম, বিদ্যুৎ, রুহুল, আহসান, ওয়াসিম ও হাসিবুলসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও হাসুয়া নিয়ে রিয়াজ, সুখী, ফারুক, আশুরা, শাকিল, ইব্রাহিম ও তামিমসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে কয়েকজনকে গুরুতর আহত করা হয়। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ও জখমের চিহ্ন রয়েছে। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের স্বজনরা জানান, রাস্তার ওপর ময়লা ফেলার মতো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। তারা হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান শেখ বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। বাদীপক্ষ মামলা করলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর নতুনপাড়া এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।