চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। সেপ্টেম্বরের প্রথম সাত দিনেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

বৃষ্টিতে বাড়ছে ডেঙ্গু, চট্টগ্রামে ৭ দিনেই আক্রান্ত ৫ শতাধিক

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময় , আপডেট সময় : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময়

চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। সেপ্টেম্বরের প্রথম সাত দিনেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়েছে। এর আগে আগস্টজুড়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ২০২ জন। আর বছরের প্রথম সাত মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৩৪ জন। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৪৮ জন। এ রোগে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। এর মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন পাঁচজন।


সংশ্লিষ্টদের মতে, আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপও দেখা যায়নি। তবে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এখনই সমন্বিতভাবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ১৮ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, চট্টগ্রাম সিএমএইচে একজন, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১৩ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে স্বচ্ছ পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ফুলের টব, ডাবের খোসা, গাড়ির টায়ার, পরিত্যক্ত পাত্রসহ নানা স্থানে জমে থাকা পানিতে দ্রুত মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে। ফলে বৃষ্টির মৌসুমে এসব উৎস নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসায় শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলেই সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও রক্তের পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।


ডেঙ্গুর জটিল পর্যায়ে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রক্তের অণুচক্রিকা কমে গেলেই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, প্রায় প্রতিদিনই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।


তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির জন্য প্রচারপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। এদিকে, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডে পরিচালিত জরিপে প্রায় ২৭ শতাংশ বাড়িতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপে বলা হয়েছে, এসব এলাকায় লার্ভার উপস্থিতি স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।


পরিসংখ্যান বলছে, চট্টগ্রামে ২০২৩ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। ওই বছর আক্রান্ত হন ১৪ হাজার ৮৭ জন এবং মারা যান ১০৭ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩২৩ জন, মৃত্যু হয় ৪৫ জনের। ২০২৫ সালে আক্রান্ত হন ৪ হাজার ৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন। এর আগে ২০২২ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৪৪৫ জন, মৃত্যু হয় ৪১ জনের।


চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সংক্রমণ এখনো আগের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে না পৌঁছালেও আক্রান্তের দ্রুত বৃদ্ধি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। তাই বৃষ্টির পানি জমতে না দেওয়া, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯