মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা এমআরপি ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্ট চালুর পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে

এমআরপি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্টের পথে বাংলাদেশ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:২৫ সময় , আপডেট সময় : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:২৫ সময়

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা এমআরপি ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্ট চালুর পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে পাসপোর্ট সেবাগ্রহীতাদের প্রায় ৯৯ শতাংশই এখন ই-পাসপোর্ট গ্রহণ করছেন। ফলে পর্যায়ক্রমে সব মিশন থেকে এমআরপি সেবা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


ই-পাসপোর্ট সেবা পুরোপুরি চালু থাকা মিশনগুলোতে ইতোমধ্যে এমআরপি ইস্যু বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব মিশনে শতভাগ ই-পাসপোর্ট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৩ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতে এমআরপি, ই-পাসপোর্ট ও নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের ৭১টি পাসপোর্ট অফিস এবং বিদেশের ৭১টি মিশনে ই-পাসপোর্ট চালুর অগ্রগতি তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।


সভা শেষে এমআরপি সুবিধা পুরোপুরি বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভায় বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার জানান, বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ই-পাসপোর্টের নিবন্ধন প্রায় ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালে এমআরপি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুরোনো যন্ত্রপাতি সচল রাখা ও মেরামত করা ক্রমেই ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে পড়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে এমআরপি ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি।


পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক লাখ সাত হাজার একটি ই-পাসপোর্টের বিপরীতে মাত্র একটি এমআরপি ইস্যু হয়েছে। সেটিও বিদেশের একটি কনস্যুলেট থেকে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, এমআরপির চাহিদা এখন প্রায় নেই বললেই চলে। দেশে ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট চালু হলেও বিদেশে থাকা প্রবাসীদের একটি বড় অংশ এত দিন এমআরপির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। বিশেষ করে অনেক প্রবাসীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা এবং জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মধ্যে অমিল থাকায় হঠাৎ এমআরপি বন্ধ করলে ভিসা ও আকামার বৈধতা নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা ছিল।


এ কারণেই প্রবাসীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এত দিন এমআরপি সেবা চালু রাখা হয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব মিশনে ই-পাসপোর্ট পুরোপুরি চালু হয়েছে, সেখানে অবিলম্বে এমআরপি সেবা বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহারের সুযোগ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাখা হয়েছে।


সৌদি আরবে থাকা বিপুলসংখ্যক প্রবাসীকে দ্রুত পাসপোর্ট সেবা দিতে জরুরি ভিত্তিতে আরও আটটি মোবাইল নিবন্ধন কিট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের দিল্লি ও কলকাতার বাংলাদেশ মিশনেও দ্রুত ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন করে আর এমআরপি তৈরি করা যাবে না। তবে যাদের বৈধ এমআরপি রয়েছে, তারা পরবর্তী সময়ে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের মিল থাকতে হবে।


ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বিদেশে এমআরপির ব্যবহার ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ করতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি মিশনে কনস্যুলার সেবা কেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে এমআরপি ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমে যাওয়া সহজ হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯