সামিট এলএনজি টার্মিনাল-২ প্রকল্পের বিল্ড, ওন, অপারেট ও ট্রান্সফার চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য পেট্রোবাংলা ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সামিট। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বাতিল হওয়া চুক্তি পুনর্বহাল করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশের প্রায় ১১০ কোটি মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামিটের পাঠানো চিঠির বিষয়ে দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে এক জ্যেষ্ঠ পেট্রোবাংলা কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সামিটের দাবি, বিল্ড, ওন, অপারেট ও ট্রান্সফার পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১৫ বছর পর কোনো অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট, মুরিং ব্যবস্থা এবং সমুদ্রতলীয় পাইপলাইনের পূর্ণ মালিকানা পাবে পেট্রোবাংলা। অন্যদিকে বর্তমানে বিবেচনাধীন বিল্ড, ওন ও অপারেট কাঠামোয় এসব সম্পদের মালিকানা পেট্রোবাংলার হাতে আসবে না। এতে বাংলাদেশের আনুমানিক ৮৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে বলে দাবি করেছে সামিট।
এ ছাড়া ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিটের ভাড়া ব্যয়ের পার্থক্যের বিষয়টিও চিঠিতে তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি। সামিটের হিসাব অনুযায়ী, বিল্ড, ওন ও অপারেট ভিত্তিতে প্রস্তাবিত তৃতীয় ভাসমান ইউনিটের দৈনিক ভাড়া হতে পারে ৩ লাখ ৪২ হাজার মার্কিন ডলার। বিপরীতে এসএলএনজি-২ প্রকল্পে এই ব্যয় ধরা হয়েছিল দৈনিক ৩ লাখ ডলার।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, শুধু ভাড়া ব্যয়ের এই পার্থক্য থেকেই ১৫ বছরে প্রায় ২৩ কোটি মার্কিন ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব। সামিট জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে অনেকটা এগিয়েছে। এতে প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জরিপও সম্পন্ন হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্রুত ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিটের চুক্তি পুনর্বহাল করে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিতে পেট্রোবাংলার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সামিটের দাবি, এতে দেশের অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তাও বাড়বে।
প্রকল্পটির আরেকটি সুবিধা হিসেবে সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে পেট্রোবাংলার এলএনজি সরবরাহ চুক্তির কথাও উল্লেখ করেছে সামিট। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, মোজাম্বিক ও কানাডাসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বছরে ১৫ লাখ টন এলএনজি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে এলএনজি আমদানি করা হলে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর সরবরাহব্যবস্থা কমবে এবং সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে বলে মনে করছে সামিট।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের অক্টোবরে পেট্রোবাংলা এসএলএনজি-২-এর সঙ্গে করা টার্মিনাল ব্যবহার চুক্তি ও বাস্তবায়ন চুক্তি বাতিল করে। সামিট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসএলএনজি-২-এর ৪৫ লাখ টন বার্ষিক সক্ষমতার একটি ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট বিল্ড, ওন, অপারেট ও ট্রান্সফার ভিত্তিতে নির্মাণের কথা ছিল। ২০২৬ সালের মধ্যে নির্মাণ শেষ করে ১৫ বছর পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল।
চুক্তি অনুযায়ী, ১ লাখ ৭০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার ওই ভাসমান ইউনিটের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা থাকার কথা ছিল ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এটি বাংলাদেশে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল হিসেবে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। এদিকে মহেশখালী দ্বীপে সামিটের মালিকানাধীন ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টন বার্ষিক সক্ষমতার একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল এটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনালটির কার্যক্রম ২০৩৩ সাল পর্যন্ত চলার কথা।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জির মালিকানাধীন আরেকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালও চালু রয়েছে। ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় এর কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে টার্মিনালটির এলএনজি পুনর্গ্যাসীকরণ সক্ষমতা ছিল বছরে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টন। পরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সংস্কারকাজ শেষে এর সক্ষমতা বাড়িয়ে বছরে ৪৫ লাখ টন করা হয়।