ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট মানেই বাড়তি উত্তেজনা ও আলোচনার জন্ম দেয়। তবে নারী এশিয়া কাপে শনিবারের ম্যাচে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা একেবারেই জমাতে পারেনি পাকিস্তান। ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের ২০০তম ম্যাচ। মাইলফলকের এই ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখার বদলে নিজেদের সবচেয়ে কম রানের ইনিংসের রেকর্ড গড়ে বসে পাকিস্তান। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৮ দশমিক ১ ওভারে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয় তারা।
পাকিস্তানের ইনিংসে শুরুটা অবশ্য খুব একটা খারাপ ছিল না। মুনিবা আলি ১৩ এবং শাওয়াল জুলফিকার ১৪ রান করেন। প্রথম উইকেট জুটিতে আসে ২৭ রান। কিন্তু মুনিবাকে বোল্ড করে জুটি ভাঙার পরই শুরু হয় পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস। এরপর ষষ্ঠ ওভারে জোড়া আঘাত হানেন শ্রী চরণী। গুল ফেরোজাকে শূন্য রানে ফেরানোর পর শাওয়াল জুলফিকারকেও আউট করেন তিনি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২৯ রান।
অষ্টম ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের রান দাঁড়ায় ৩২। এরপর শ্রী চরণী, প্রেমা রাওয়াত ও দীপ্তি শর্মার বোলিং আক্রমণে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। ভারতের হয়ে শ্রী চরণী ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। প্রেমা রাওয়াত ৯ রানে ৩টি এবং দীপ্তি শর্মা ৫ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন।
৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুতে কিছুটা চাপের মুখে পড়ে ভারত। পাকিস্তানের বোলার ফাতিমা সানা ১৭ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেন। তবে লক্ষ্য এতটাই ছোট ছিল যে ম্যাচে বড় কোনো নাটকীয়তা তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ভারত। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ১৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। হাতে তখনও ছিল ৬৮ বল।
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান নারী দলের টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এর আগে ২০১২ সালের নারী এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষেই তাদের সর্বনিম্ন সংগ্রহ ছিল ৬৩ রান। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৬ রানেও অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান। অন্যদিকে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের নিখুঁত যাত্রা ধরে রেখেছে ভারত। তিন ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে ইতোমধ্যেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা।
পাকিস্তানের অবশ্য নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে জিততে পারলে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে তাদের। আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য ৫৫ রানের চেয়েও কম সংগ্রহের নজির রয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে মালদ্বীপের নারী দল মাত্র ৬ রানে অলআউট হয়ে ২৪৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল। একইভাবে রুয়ান্ডার বিপক্ষেও মালির নারী দল ৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জাজনক নজির গড়েছে।