দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন,

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৭ সময় , আপডেট সময় : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৭ সময়

দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র‍্যাব ও ডিজিএফআই একযোগে কাজ করছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।


শুক্রবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যার নির্মিত জেলা হাসপাতাল এবং হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একটি চক্র রোগীদের নানা ধরনের প্রলোভন ও ভুল তথ্য দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে।


অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে জরিমানা করার পাশাপাশি অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে। ভুয়া চিকিৎসক ও সনদধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালুর ঘোষণাও দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের টিকাদান কর্মসূচিতে নানা কারণে কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে। কেউ কর্মসূচির খবর পাননি, কেউ ব্যস্ততার কারণে সন্তানকে টিকাকেন্দ্রে নিতে পারেননি। আবার কিছু শিশু স্কুলে থাকায় নির্ধারিত সময়ে টিকা নিতে পারেনি।


মন্ত্রী জানান, নির্ধারিত এক কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এক কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও পূর্ণ কভারেজ নিশ্চিত হয়নি। পাশাপাশি নতুন শিশুরাও টিকাদানের আওতায় আসায় একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে টিকা না পাওয়া কিছু শিশুর মধ্যে বর্তমানে হাম দেখা দিচ্ছে।বয়সের কারণে কর্মসূচির সময় কিছু শিশুর টিকা না পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। পরে তারা টিকা নেওয়ার উপযুক্ত হলেও নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় অনেকে বাদ পড়ে যায় বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


সিলেটের হাওরাঞ্চলে টিকাদান কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল কর্মসূচির আগে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওসমানী হাসপাতালের পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। কোনো সমস্যা থাকলে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়ে তিনি আগামী সাত দিনের মধ্যে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।


দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকটের কথাও তুলে ধরেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি ১১ থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন চিকিৎসক বা নার্স দায়িত্ব পালন করছেন। সীমিত জনবল নিয়েও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯