কোনো ধরনের ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক বিভাজনকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সবার দেশ। ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পার্থক্যের কারণে দেশের কোনো মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। শুক্রবার সকালে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দিনাজপুরের বিরামপুর বারোয়ারী মন্দির প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, দেশের সব নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্ম, পেশা ও কর্ম স্বাধীনভাবে এবং নিরাপদে পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ধর্মীয় সম্প্রীতির বাংলাদেশকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, দেশে কোনো ধরনের হিংসা, বিদ্বেষ, জোরজুলুম বা অন্যায় সহ্য করা হবে না। প্রত্যেকে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী স্বাধীনভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসব পালন করবেন। কেউ যাতে এতে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখা হবে।
জাহিদ হোসেন আরও বলেন, শত বছর ধরে দেশের মানুষ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ হিসেবে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। ভবিষ্যতেও সবাই একসঙ্গে থেকে বাংলাদেশের কল্যাণে কাজ করবে। তিনি বলেন, শুধু দিনাজপুর-৬ আসন নয়, পুরো বাংলাদেশেই হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করবেন। সবার পরিচয় একটাই—তারা বাংলাদেশি। এই পরিচয়কে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, কোনো নাগরিককে অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন, দখলদারত্ব কিংবা চাঁদাবাজির শিকার হতে দেওয়া হবে না। এসব কর্মকাণ্ড সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সবসময় মানুষের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এবং বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিনা খাতুন, বিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম, হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমানসহ বিএনপি ও সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।