গুমের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবারকে সরাসরি আদালতে যাওয়ার সুযোগ রেখে গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনকে ২০২৫ সালের

গুম প্রতিরোধ আইন ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের চেয়ে শক্তিশালী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৫২ সময় , আপডেট সময় : ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৫২ সময়

গুমের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবারকে সরাসরি আদালতে যাওয়ার সুযোগ রেখে গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনকে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের তুলনায় আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর রাতে সংসদে মানবাধিকার কমিশন বিল সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় এ কথা জানান তিনি।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ার নির্ধারণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে যাওয়ার সুযোগও ছিল। তবে গুমের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবারকে মামলা করতে গিয়ে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। নতুন আইনে সেই জটিলতা কমিয়ে সরাসরি আদালতে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনিও নিজে গুমের শিকার হয়েছিলেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য ও আবেগকে তিনি সম্মান করেন। তবে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


মন্ত্রী জানান, জোরপূর্বক গুমের বিষয়টি আগের মতোই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারে থাকবে। এ ধরনের অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই চলবে। পাশাপাশি গুমের অন্যান্য ধরনও নতুন আইনে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।


নতুন আইনে গুমের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দায় যাদের ওপর বর্তাবে, তাদের সম্পত্তি না থাকলেও ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারের ওপর দায় বর্তানোর বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ব্যারিস্টার আরমানের স্বাধীন তদন্ত সংস্থা গঠনের বক্তব্যের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি জানান, মানবাধিকার কমিশনের আইনে বিনা নোটিশে পরিদর্শনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। গুমের শিকার কাউকে খুঁজতে কমিশন প্রয়োজন হলে বিনা নোটিশে যেকোনো স্থানে যেতে পারবে।


তিনি আরও বলেন, স্বাধীন তদন্ত সংস্থা হিসেবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গুমের বিষয়ে তদন্ত করতে পারবে। তবে আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রস্তাবিত আইনে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, নতুন আইনটি ২০২৫ সালের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা অধ্যাদেশের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। আইনের বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে এতে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সংসদে আইনটি উত্থাপনের আগে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের পাশাপাশি বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, মানবাধিকার সংস্থা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের স্থানীয় সংস্কৃতি ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যতটা সম্ভব বিষয়গুলো আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সংশোধনের সময় আরও আলোচনা করে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা যাবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯