মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের পা কেটে পঙ্গু করে দেওয়ার এক বছর পর তার ছেলে

জামিনে বেরিয়ে ভাইয়ের পা কর্তন, এক বছর পর ভাতিজাকে হত্যা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৪ সময় , আপডেট সময় : ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৪ সময়

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের পা কেটে পঙ্গু করে দেওয়ার এক বছর পর তার ছেলে ও নিজের ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। নিহত ইলিয়াস মোল্লা মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফেরার পর গত ১৯ জুন হামলার শিকার হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর পরদিন ২০ জুন তার মৃত্যু হয়।


নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এর আগে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ইলিয়াসের চাচা ইসহাক মোল্লার ওপর হামলা চালিয়ে তার ডান পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি মামলার মূল আসামিদের নামও অর্থের বিনিময়ে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়ার দাবি করেছে পরিবার। তাদের অভিযোগ, বিচার না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে আরও একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিহত ইলিয়াস মোল্লার স্ত্রী লিপি বেগম। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি হামলায় পা হারানো ইসহাক মোল্লাও উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


লিপি বেগমের অভিযোগ, সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের পূর্ব কোলাগ্রামে জমিজমা নিয়ে তার চাচা-শ্বশুর ইসহাক মোল্লার সঙ্গে স্থানীয় সিদ্দিক মোল্লা, তার স্ত্রী রওশন আরা এবং তাদের দুই ছেলে বিপ্লব মোল্লা ও বিদ্যুৎ মোল্লার বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ রমজান মাসে ইসহাক মোল্লার ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন লিপি। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং ডান পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এতে তিনি স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যান।


ইসহাক মোল্লার করা মামলায় অভিযুক্তদের কাউকেই একদিনের জন্যও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন লিপি বেগম। পরে অর্থের বিনিময়ে মামলার অভিযোগপত্র থেকে মূল আসামিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। লিপির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুন ইলিয়াস তার পঙ্গু চাচা ইসহাক মোল্লাকে হুইলচেয়ারে করে রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি অটোরিকশায় করে এসে সিদ্দিক মোল্লা, রওশন আরা, বিপ্লব মোল্লা ও বিদ্যুৎ মোল্লা তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।


অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইলিয়াসকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে তার হাতের রগ কেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। একই সময় হুইলচেয়ারে থাকা ইসহাক মোল্লার ওপরও হামলা করা হয় বলে দাবি করেন লিপি। এতে তার ডান হাতের দুটি আঙুল কেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে আহত ইলিয়াস ও ইসহাককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ইলিয়াসকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুন তার মৃত্যু হয়।


এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় হত্যা মামলা করেন লিপি বেগম। পরে মামলার আসামি বিপ্লব মোল্লা, বিদ্যুৎ মোল্লা, সিদ্দিক মোল্লা ও রওশন আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯