নেপালে ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতীয় সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:২৭ সময় , আপডেট সময় : ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:২৭ সময়

নেপালে ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতীয় সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এগুলো হলো ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। বন্যার পর থেকেই প্রকল্প দুটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প একটি প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতির জন্য ভারতের কাছে আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।


বর্ষাকালে নেপালের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণত জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। গত কয়েক বছরে বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে। এর মাধ্যমে দেশটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু এবারের বন্যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, ভারতের সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে।


পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের সঙ্গে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও নেপাল নীতিগতভাবে সম্মত হয়। তবে ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি। কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, চিলিমে প্রকল্প থেকে ভারতের কাছে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন ছিল। ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্যও প্রকল্প দুটি অনুমোদিত ছিল।


বন্যার প্রভাবে শুধু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রকল্প দুটিই নয়, নেপালের আরও কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের পর থেকে দেশটির মোট ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এদিকে বন্যার কারণে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানিতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি বাংলাদেশ ও ভারতে ২ হাজার ৯৩২ কোটি নেপালি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল। একই সময়ে শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি রুপির বিদ্যুৎ আমদানি করা হলেও নিট বিদ্যুৎ বাণিজ্যে নেপালের উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ৯০৯ কোটি রুপি।


বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে কাজ করছে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সচল অন্য কোনো প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি পেতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। গত ২৬ আগস্ট নেপালের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে নদীতীরবর্তী জনপদ, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে। পরে বন্যার পানি ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে। প্রবল স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জনে পৌঁছেছে এবং এখনো ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯