চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় ২২৬টি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল

খারাপ ফলের পেছনে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাখ্যা মানতে নারাজ বোর্ড

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১০:২২ সময় , আপডেট সময় : ২৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১০:২২ সময়

চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় ২২৬টি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল ও অনলাইন আসক্তি এবং কারিকুলাম পরিবর্তনকে খারাপ ফলের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তাদের এসব ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের তদন্তে উঠে এসেছে, শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার পেছনে মূলত প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ব্যর্থতা, একাডেমিক নজরদারির ঘাটতি এবং দায়িত্বশীলতার অভাব রয়েছে। আগের বছরগুলোতে টেস্ট পরীক্ষার পর বিনা মূল্যে কোচিং, অতিরিক্ত ক্লাস ও শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি নজরদারি করা হলেও এবার অনেক প্রতিষ্ঠানে এসব উদ্যোগ ছিল না।


২২৬টি মাদ্রাসার ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে আরবি বিষয়ে। এরপর রয়েছে ইংরেজি ও গণিত। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, শতভাগ ফেল করা মাদ্রাসাগুলোর প্রধানরা যেসব কারণ দেখিয়েছেন, তাতে বোর্ড সন্তুষ্ট হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেই শিক্ষার্থী সংখ্যা খুবই কম এবং নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশও নেই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে লিখিত সুপারিশ পাঠানো হবে।


ফল প্রকাশের পরদিন, গত ১১ আগস্ট শতভাগ ফেল করা ২২৬টি মাদ্রাসার প্রধানকে লিখিত ব্যাখ্যাসহ বোর্ডে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৩ আগস্টের মধ্যে তাঁরা বোর্ডে উপস্থিত হয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ তুলে ধরেন। ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শূন্য পাস করা মাদ্রাসার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি উত্তরাঞ্চলে। রাজশাহী অঞ্চলে রয়েছে ৭৪টি, রংপুরে ৪১টি, বরিশাল ও ঢাকায় ২৯টি করে, খুলনায় ২৭টি, ময়মনসিংহে ১৮টি, কুমিল্লায় সাতটি এবং চট্টগ্রামে একটি মাদ্রাসা। তবে সিলেট অঞ্চলে কোনো মাদ্রাসাই শূন্য পাসের তালিকায় নেই।


মাদ্রাসাপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বোর্ড কর্মকর্তারা লিখিত বক্তব্যের বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। সেখানে আরও কিছু কারণ উঠে আসে। কয়েকজন প্রধান জানান, মফস্‌সল ও দুর্গম এলাকার অনেক মাদ্রাসা ভালো শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী মাত্র একজন, আবার কোথাও দুই থেকে পাঁচজন—তাঁরাও নিয়মিত নয়। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর কিছু শিক্ষক পলাতক থাকা বা কারাগারে থাকার বিষয়টিও কয়েকজন মাদ্রাসাপ্রধান উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, পরবর্তী সময়ে শিক্ষকসংকট, পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে যাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পড়াকেও খারাপ ফলের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।


তবে নকল ঠেকাতে কড়াকড়ি, পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি এবং খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়নের কারণেও এবার ফেল বেশি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন মাদ্রাসাপ্রধান। তবে এসব যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. ফারুক আহম্মেদ। তাঁর প্রশ্ন, কারিকুলাম পরিবর্তন বা মোবাইল আসক্তি যদি বড় কারণ হয়, তাহলে সাধারণ বিদ্যালয়ের ফলাফলেও একই ধরনের প্রভাব থাকার কথা। একই সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আরবি বিষয়েই কেন বেশি ফেল করবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।


বোর্ডের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, শূন্য পাস করা মাদ্রাসাগুলোর প্রায় অর্ধেকই পুরোনো প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার মান ও শিক্ষাসূচক নিশ্চিত করতে ব্যর্থ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিগগিরই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯