হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে বরফধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও তিব্বতে প্রাণহানি বেড়ে ১৬৫ ছাড়িয়েছে। এখনো

‘ছাদ থেকে পুরো পরিবারকে ভেসে যেতে দেখলাম, এই বন্যা আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে’

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৭ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ২:৩৫ সময় , আপডেট সময় : ২৭ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ২:৩৫ সময়

হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে বরফধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও তিব্বতে প্রাণহানি বেড়ে ১৬৫ ছাড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৫০০ জনের বেশি মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিক ও পর্যটক রয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল পানির স্রোতে রাস্তাঘাট, সেতু এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ শতাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিদেশি নাগরিক ও পর্যটক। এই ভয়াবহ দুর্যোগে নুয়াকোট জেলার কল্পনা মল্লার পরিবারও নিশ্চিহ্ন হয়েছে। আকস্মিক বন্যার স্রোত থেকে বাঁচতে তিনি কোনোভাবে ছাদে উঠে নিজের জীবন রক্ষা করলেও চোখের সামনে বাবা, মা, বোন ও বোনের সন্তানদের পানির তোড়ে ভেসে যেতে দেখেছেন।


কল্পনা জানান, বন্যার স্রোত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে পরিবারের সদস্যদের পালানোর কোনো সুযোগই ছিল না। তিনি ও তাঁর ছেলে কোনোমতে একটি বাড়ির ছাদে উঠে প্রাণে বেঁচেছেন। কল্পনার ছেলে সুগম মাল্লা জানান, তিনি হাত ধরে টেনে তাঁর মাকে নিরাপদে তুলেছিলেন। তাঁর বোনের সঙ্গেও বর্তমানে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ফোন বন্ধ থাকায় বন্যার স্রোতে বোনও ভেসে গেছে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।


বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরাও। গোমা পণ্ডিত নামে এক নারী জানান, তাঁর মহিষসহ গবাদিপশু ভেসে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষিজমি, শর্ষের বীজ, ভুট্টা ও ধানের মজুত। এদিকে তিব্বতেও এই দুর্যোগে অন্তত তিনজনের প্রাণহানি হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আরও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।


যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে অনুভূত ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদ থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে। তবে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নেপালের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পের পর বরফধস বা ভূমিধসের কারণে নদীর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়ে হঠাৎ প্রবল পানির স্রোত নেমে আসতে পারে। ভয়াবহ এই বন্যা ও ভূমিধসকে ২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯