নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ১৫৭ জন নিহত

নেপালে নিহত বেড়ে ১৫৭, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জনসহ নিখোঁজ চার শতাধিক

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৭ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪৮ সময় , আপডেট সময় : ২৭ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪৮ সময়

নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের বড় একটি অংশ বিদেশি পর্যটক। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এটিকে নেপালের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ান থেকে ৩৩টি, গোর্খা থেকে ১৯টি, ধাদিং থেকে ১৮টি, নুয়াকোট থেকে ১১টি, নওয়ালপুর থেকে ১১টি, তানাহুঁ থেকে সাতটি এবং রসুয়া থেকে একটি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। এছাড়া নিখোঁজদের মধ্যে ৬১ জন নেপালি নাগরিক বলে জানা গেছে। মোট ২৬টি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ট্যুর অপারেটরদের ভাষ্য, নিখোঁজ পর্যটকদের অধিকাংশই ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার সকালে তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পের পরই আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সূত্রপাত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪।


এদিকে তিব্বতের গিরং এলাকায়ও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালের বিদ্যুৎ খাতও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। জল ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। প্রবল পানির স্রোতে বহু ঘরবাড়ি ভেসে গেছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা কাদামাটিতে তলিয়ে গেছে।


প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দুর্যোগে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, উদ্ধার কার্যক্রমে সরকারের সব ধরনের সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয় বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সীমান্তবর্তী নদীর উজানে কোথাও পানি ও মাটির প্রবাহে বাধা তৈরি হয়ে থাকলে যেকোনো সময় আবারও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯