আগামী ২০২৭ সালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা কমবে। বুধবার বিকেলে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষ কৃষিকাজ, মাছ চাষ ও হাঁস পালনে আরও স্বাচ্ছন্দ্য পাবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সারের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দল কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। আগের সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া সার ডিলাররাই এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান সরকারের সময়ে আগের ডিলারদের বাতিল করা হয়নি। শূন্য পদে ডিলার নিয়োগের জন্য দ্বিতীয় পরিপত্র জারি করা হয়েছে এবং তৃতীয় পরিপত্রের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই সার সংগ্রহ করতে পারেন। কেউ যাতে বেশি দামে সার বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নজরদারি করতে বলা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করে ধাপে ধাপে তাদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে দ্রুত নেমে যাওয়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, একসময় অল্প গভীরতাতেই পানি পাওয়া গেলেও বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় ২০০ ফুট গভীরেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বরেন্দ্র অঞ্চলের কিছু এলাকায় ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট গভীরেও পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন নদীগুলোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল মরুকরণের ঝুঁকিতে পড়ছে। কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ের বহু নদীও এখন মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভারতের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার পানি নিশ্চিত করা হলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর শিক্ষা সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।