শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, স্কুলের পরিচালনা কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা থাকা উচিত নয়। বরং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যুক্ত করে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির দুর্গাপুর উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিগত দিনের দলীয়করণের সমালোচনা করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, স্কুলের পরিচালনা কমিটির হাতে কিছু ক্ষমতা থাকে, যা অনেক সময় রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করা হয়। রাজনীতি করার জন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনৈতিক সংগঠনের কাঠামো রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, একজন শিক্ষক আজীবনই শিক্ষক। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তারা সমাজের কাছে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ হিসেবে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে থাকেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলোকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে বিবেচনা করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারে সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির দুর্গাপুর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা, দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান আনছারীসহ সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠান শেষে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।