মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষতিকর ও অনুপযুক্ত কনটেন্টও শিশু-কিশোরদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
শুক্রবার ঢাবির চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে ‘শত বছরের সফল ব্যক্তি স্মারক সম্মাননা এবং প্রকাশনা ও সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জীবনযাপনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বই পড়ার মতো গঠনমূলক অভ্যাস কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর ও অনুপযুক্ত বিষয় শিশু-কিশোরদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ও ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফকির মাহবুব আনাম। তিনি জানান, প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে কার্যকর একটি কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রজন্মকে বই ও ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্ম, দল কিংবা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও দেশের জন্য যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাদের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, টাঙ্গাইলের অনেক গুণী ব্যক্তি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের কর্ম ও অবদান সংরক্ষণ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বই প্রকাশের পাশাপাশি গ্রন্থাগারগুলোতেও এসব বই ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আটটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি শত বছরের সফল ব্যক্তিদের স্মরণে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রকাশ এবং গুণী ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, সফল ও গুণী ব্যক্তিদের জীবন, কর্ম ও অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক চিন্তার প্রসার ঘটানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।