যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে প্রয়োজন হলে তিনি আরও একশ বার হামলা চালাতেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ না থাকলে ইসরাইলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য আজ ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পড়ত। এক রেডিও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতেই তিনি দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার নির্দেশ দেন বলে জানান।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন হামলার ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে গেছে। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনীতিও ধসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গণমাধ্যমে যে চিত্র উঠে আসছে, তার বিপরীতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘দাদাগিরি করা রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, দেশটি কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর ওপরও হামলা চালিয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক খুব বেশি ঘনিষ্ঠ না হলেও তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ না নিলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারত। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছিল ইরান—এমন দাবিও করেন তিনি।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির সামরিক সক্ষমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক অভিযান চালানোর কঠোর অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।