গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণদের ডেকে এনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অভিনয় করে কৌশলে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে আনত। পরে তাদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
আটক চারজনের মধ্যে স্থানীয় একটি কলেজের তিন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের দুজনের বয়স ১৭ বছর এবং অপরজন মাহবুবের বয়স ২০ বছর। অপর আটক ব্যক্তি ওই বাড়ির মালিকের স্ত্রী সেলিনা আক্তার। স্থানীয়দের অভিযোগ, খোকন ও তার স্ত্রী সেলিনা দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যার পর নিজেদের বাড়িতে তরুণীদের নিয়ে আসতেন। এরপর বিভিন্ন তরুণকে সেখানে ডেকে এনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হতো।
ভুক্তভোগী মনির হোসেন অভিযোগ করেন, গত শনিবার তাকে রাস্তা থেকে তুলে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে টাকা দেওয়ার পর তিনি সেখান থেকে মুক্তি পান। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এর আগে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের মারধর করে বলে জানা গেছে।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক মাজাহারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে এই চক্রের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রেমের ফাঁদ ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।