গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ধারণক্ষমতার চেয়ে আড়াই গুণ বেশি কিশোর অবস্থান করছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত এ কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের বাসিন্দা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৯ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪১ সময় , আপডেট সময় : ১৯ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪১ সময়

গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ধারণক্ষমতার চেয়ে আড়াই গুণ বেশি কিশোর অবস্থান করছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত এ কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা ৩০০ জন হলেও বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত প্রায় ৭৫০ কিশোর রয়েছে। কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান জানান, কিশোরদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৮২ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত। তাদের বড় একটি অংশ বাল্যবিবাহের ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে কেন্দ্রে এসেছে। আবার কিছু কিশোর সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগেও অভিযুক্ত।


একই চিত্র গাজীপুরের কোনাপাড়ায় কিশোরীদের জন্য পরিচালিত দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রেও। ১৫০ জনের ধারণক্ষমতার এই কেন্দ্রে বর্তমানে রয়েছে ১১৭ জন। তাদের মধ্যে ৭০ জন বাল্যবিবাহের অভিযোগে আদালতের মাধ্যমে এসেছে। এদের মধ্যে দুজন শিশু সন্তানসহ রয়েছে এবং ১২ জন গর্ভবতী। তবে গর্ভবতী কিশোরীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নেই বলে জানা গেছে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিশোর-কিশোরীদের নিজেদের উদ্যোগে বাল্যবিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। জলবায়ুপ্রবণ উপকূলীয় এলাকা, সীমান্তবর্তী অঞ্চল, দুর্গম এলাকা ও শহুরে বস্তি থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।


গবেষণায় আরও দেখা যায়, বাল্যবিয়ের পর এক বছরের মধ্যে প্রায় অর্ধেক কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এতে প্রসবজনিত জটিলতা এবং নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে। শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর ব্যবস্থাপক চৌধুরী মোহাইমেনের মতে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়া, অভিভাবকদের ব্যস্ততা এবং মোবাইল ফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে নানা ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বাড়ছে।


শিশু যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কাজ করা একটি সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা বলেন, অর্থনৈতিক চাপে নিম্নআয়ের পরিবারের বাবা-মা দুজনই কাজে যুক্ত থাকায় অনেক শিশু পর্যাপ্ত নজরদারি ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্মার্টফোনের সহজলভ্যতাও কিশোরদের আচরণে প্রভাব ফেলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের শিক্ষাজীবন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। ১৬ বছরের আগেই বিয়ে হলে মাধ্যমিক শিক্ষা অসম্পূর্ণ থাকার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাঁর গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বিয়ের বয়স এক বছর কমলে একজন নারীর গড়ে প্রায় ছয় মাস শিক্ষাজীবন হারানোর আশঙ্কা থাকে।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক সাবিনা শরমিন বলেন, বাল্যবিবাহ ও কিশোর অপরাধ কমাতে পরিবার, প্রতিবেশী এবং সামাজিক সম্পর্কগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বেশি কিশোর-কিশোরী রাখা যাবে না। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) সমীর মল্লিক জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এসব শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯