ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড

হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের, বাস্তবে কি সম্ভব?

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৭ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৫:৫৪ সময় , আপডেট সময় : ১৭ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৫:৫৪ সময়

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে পরাজিত করার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। তাদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এককভাবে কোনো ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ঘোষণা করতে পারেন না। এর জন্য সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম—দুটোর ওপরই বড় প্রভাব পড়তে পারে। গত শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন তিনি। একই সঙ্গে সেখানে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না বলেও দাবি করেন তিনি।


তবে ইরান ট্রাম্পের বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, কোনো ঘোষণা, আদেশ কিংবা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করা সম্ভব নয়। ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আলোচনা দ্রুত শেষ হতে পারে। তবে প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আলাদা বলে জানিয়েছেন তিনি। ইরানের অবস্থান, হরমুজে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে গত জুনের সমঝোতা স্মারকের শর্ত মানতে হবে। এর মধ্যে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয় রয়েছে।


ট্রাম্প কি সত্যিই হরমুজ দখল করতে পারবেন?

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রেসিডেন্টের ঘোষণায় কোনো ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হয়ে যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রুস ফেইনের মতে, দেশটির সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট এককভাবে কোনো ভূখণ্ড যুক্ত করতে পারেন না। এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য সিনেট অনুমোদিত চুক্তি অথবা কংগ্রেসের আইন প্রয়োজন।


অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নাটালি ক্লেইনের মতে, হরমুজের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সেখানে বাস্তব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর জন্য ইরান বা অন্তত দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হতে পারে। তবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হরমুজ দখল বা নিজেদের ভূখণ্ড করার চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


হরমুজ প্রণালি আসলে কার?

হরমুজ প্রণালির দুই পাশে রয়েছে ইরান ও ওমান। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পুরো প্রণালির ওপর ইরানের একক সার্বভৌমত্ব নেই। জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী, উপকূলীয় দেশগুলো উপকূল থেকে সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আঞ্চলিক জলসীমার ওপর সার্বভৌম অধিকার রাখে। হরমুজের সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল হওয়ায় ইরান ও ওমানের জলসীমা সেখানে একে অপরের সঙ্গে মিলে যায়। তবে আন্তর্জাতিক প্রণালি হওয়ায় জাহাজ চলাচলের নির্দিষ্ট অধিকারও রয়েছে।


এদিকে যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও অসন্তোষ বাড়ছে। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। দীর্ঘ সংঘাতের প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ও জ্বালানি বাজারেও। দেশটিতে পেট্রোলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের বেশি হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুদ্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার এখন জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ করা।


বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের হরমুজ নিয়ে বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকলেও বাস্তবে এটি কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন। আইনগত ও সামরিক—দুই দিক থেকেই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করার পরিকল্পনা বড় বাধার মুখে পড়বে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের পরও এখনই পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯