ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে দুর্ঘটনার পর এবার আরও দুই পাইলটের মাদক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার খবর সামনে এসেছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় তারা উত্তীর্ণ হতে পারেননি। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডি-রোস্টার করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনার পর ফ্লাইটের প্রধান পাইলটের দুটি মূত্র পরীক্ষায় গাঁজা বা মারিজুয়ানা সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপরই এয়ার ইন্ডিয়া তাদের সব পাইলটের জন্য নতুন নিয়মে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে।
এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক পাইলটের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল পেতে সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। ফ্লাইটের এক কেবিন ক্রুও ওই প্রধান পাইলটের আগে গাঁজা সেবনের অভিযোগ করেছিলেন। এদিকে যে এয়ারবাস এ-৩২০নিও উড়োজাহাজকে ঘিরে এই ঘটনা, সেটি হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
কারিগরি তথ্যে জানা গেছে, উড়োজাহাজটির তিনটি প্রধান হাইড্রোলিক ব্যবস্থা অকেজো হয়ে যাওয়ার পর প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর, এলরন ও স্পয়লারসহ গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়। পাইলটের কোনো কমান্ড ছাড়াই উড়োজাহাজের ডানা ও পেছনের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ না করার ঘটনাটি বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এয়ার ইন্ডিয়ার দাবি, নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করেই পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, দুর্ঘটনার তদন্তের মধ্যেই আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক মাদক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।