পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার ধারাবাহিকতা থামাতে পারলেন না লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন তারকার স্পট কিক রুখে দিয়ে ন্যাশভিলের বিপক্ষে বড় জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা। ফলে টানা তৃতীয় ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেল ইন্টার মায়ামি। শনিবারের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ন্যাশভিল। ১৭ মিনিটে অ্যান্ডি নাহারের গোলে এগিয়ে যায় তারা। তবে ২৩ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পায় মিয়ামি। পেনাল্টি পেয়ে স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। কিন্তু তার নিচু শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন ন্যাশভিলের গোলরক্ষক ব্রায়ান শোয়েক।
ফিরতি বলে গোল করলেও সেটি শেষ পর্যন্ত টেকেনি। ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায়, মেসির পেনাল্টির সময় সতীর্থ সের্হিও রেগিলন বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। এই ব্যর্থতার ফলে টানা তিনটি পেনাল্টি মিস করলেন মেসি। এর আগে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপেও দুটি পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি তিনি। দীর্ঘ সময় পর ঘরোয়া লিগেও পেনাল্টি মিসের মুখে পড়লেন এই তারকা ফুটবলার।
তবে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মেসির দারুণ পাস থেকেই সমতায় ফেরে মিয়ামি। তার বাড়ানো বল পেয়ে চমৎকার দক্ষতায় গোল করেন তেলাস্কো সেগোভিয়া। বিরতিতে দুই দল ছিল সমতায়। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ন্যাশভিল। একের পর এক আক্রমণে মিয়ামির রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা। হানি মুখতার করেন দুটি গোল। আর স্যাম সারিজের দুর্দান্ত ব্যাকহিল গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে।
ম্যাচের শেষদিকে মেসির হতাশাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একটি গোলের আগে ফাউলের অভিযোগ তুলে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ান তিনি। এ ঘটনায় তাকে হলুদ কার্ডও দেখানো হয়। এরপরও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। তার একটি শট দুই পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে পুরো ম্যাচে ব্যক্তিগতভাবে হতাশার মধ্যেই থাকতে হয় তাকে।
ম্যাচের শেষ গোলটিও আসে মিয়ামির বড় ভুল থেকে। দলের গোলরক্ষক রোকো রিওস নোভো পেনাল্টি এলাকার বাইরে গিয়ে পড়ে গেলে ন্যাশভিলের গোলরক্ষকের লম্বা কিক ধরে খালি জালে বল পাঠান হানি মুখতার। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের ব্যবধানে জয় পায় ন্যাশভিল। এই পরাজয়ের ফলে টানা তিন ম্যাচে হারের পাশাপাশি শীর্ষস্থান দখলের সুযোগও হাতছাড়া হলো মিয়ামির। ম্যাচটি জিততে পারলে ন্যাশভিলকে পেছনে ফেলে শীর্ষে ওঠার সুযোগ ছিল তাদের।
এর আগে লিগস কাপেও টানা দুই ম্যাচ হেরে নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি মিয়ামি। তবে সেই ম্যাচগুলোতে মেসি ও লুইস সুয়ারেজ শুরুর একাদশে ছিলেন না। বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর এই ম্যাচেই প্রথমবার শুরুর একাদশে ফিরেছিলেন মেসি। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে দলকে জয় এনে দিতে পারেননি তিনি। এখন টানা পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় মেসি ও তার দল। পরবর্তী ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে আবারও ছন্দে ফেরাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।