ফেসবুক ব্যবহারের সময় আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সংগ্রহ বা ব্যবহার হচ্ছে, তা অনেকেরই জানা থাকে না। বিভিন্ন অ্যাপ ও গেমের সংযোগ, লোকেশন পারমিশন, অন্য ওয়েবসাইটে ফেসবুক দিয়ে লগইন এবং ফেসবুকের বাইরের অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে আপনার তথ্য ব্যবহৃত হতে পারে। তাই নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি সেটিংস পর্যালোচনা করা জরুরি। প্রথমেই ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও গেমগুলো সরিয়ে দিন। দীর্ঘদিন ব্যবহার করেন না কিংবা অপরিচিত—এমন কোনো অ্যাপ যুক্ত থাকলে সেটি আপনার অনুমোদিত তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারে। তাই সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি থেকে সেটিংস, এরপর অ্যাপস অ্যান্ড ওয়েবসাইটস বিভাগে গিয়ে সংযুক্ত অ্যাপ ও গেমগুলো পর্যালোচনা করুন।
দ্বিতীয়ত, অপরিচিত ডিভাইস থেকে কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করলে দ্রুত জানতে লগইন অ্যালার্ট চালু রাখুন। অ্যাকাউন্টস সেন্টারের পাসওয়ার্ড অ্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ থেকে লগইন অ্যালার্টস চালু করা যায়। এতে সন্দেহজনক লগইন হলে নোটিফিকেশন বা ই-মেইলের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাওয়ার সুযোগ থাকে। তৃতীয়ত, অপ্রয়োজনে অন্য অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ফেসবুক দিয়ে লগইন করা বন্ধ করুন। ‘লগইন উইথ ফেসবুক’ সুবিধাটি ব্যবহার করলে তৃতীয় পক্ষের সেবার সঙ্গে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সংযোগ তৈরি হয়। তাই অ্যাপস অ্যান্ড ওয়েবসাইটস বিভাগে গিয়ে পুরোনো ও অপ্রয়োজনীয় সংযোগগুলো পর্যালোচনা করে সরিয়ে দিতে পারেন।
চতুর্থত, নিয়মিত প্রাইভেসি চেকআপ করুন। এই ফিচারের মাধ্যমে আপনার পোস্ট কে দেখতে পারবে, প্রোফাইলের কোন তথ্য প্রকাশ্যে থাকবে, যোগাযোগের তথ্য এবং বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে পর্যালোচনা করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি সেটিংস পরিবর্তন করলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে। পঞ্চমত, ফেসবুকের লোকেশন অ্যাক্সেস সীমিত করুন। ফোনের সেটিংস থেকে ফেসবুক অ্যাপের লোকেশন পারমিশন পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন না থাকলে লোকেশন অনুমতি বন্ধ করে দিতে পারেন। আর প্রয়োজন হলে শুধু অ্যাপ ব্যবহারের সময় লোকেশন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। ডিভাইসভেদে এই অপশনগুলোর নাম কিছুটা আলাদা হতে পারে।
ষষ্ঠত, বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং এবং ফেসবুকের বাইরের কার্যক্রমের তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি পর্যালোচনা করুন। অ্যাকাউন্টস সেন্টারের অ্যাড প্রেফারেন্সেস বিভাগে গিয়ে বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণের বিভিন্ন সেটিংস দেখা যায়। পাশাপাশি অফ-মেটা অ্যাক্টিভিটি বিভাগ থেকে ফেসবুকের বাইরে আপনার সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যকলাপের তথ্য পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, এসব সেটিংস পরিবর্তন করলেই ফেসবুকে বিজ্ঞাপন পুরোপুরি বন্ধ হবে না। বরং আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে এবং ফেসবুকের বাইরের কার্যকলাপ বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণে কতটা কাজে লাগছে—সেটির ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যাবে। তাই নিরাপদ ফেসবুক ব্যবহারের জন্য শুধু শক্তিশালী পাসওয়ার্ড রাখাই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত অ্যাপ সংযোগ, লগইন, লোকেশন, প্রাইভেসি এবং বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত সেটিংস পরীক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।