বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর অনুমতি পেতে সম্প্রতি ড্রাইভিং পরীক্ষা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। সেই অভিজ্ঞতার পর

ড্রাইভিং টেস্ট পাসের পর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নিজের ভাবনা জানালেন জাইমা রহমান

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৩ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ২:৫৮ সময় , আপডেট সময় : ১৩ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ২:৫৮ সময়

বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর অনুমতি পেতে সম্প্রতি ড্রাইভিং পরীক্ষা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। সেই অভিজ্ঞতার পর দেশের সড়কব্যবস্থা, আইন প্রয়োগ, দুর্নীতি এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন তিনি। বুধবার ১২ আগস্ট নিজের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন।


পোস্টে তিনি জানান, জীবনে দ্বিতীয়বার ড্রাইভিং পরীক্ষা দিয়েছেন বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর অনুমতির জন্য। এর আগে এক দশকেরও বেশি সময় আগে লন্ডনে প্রথম পরীক্ষা দিয়েছিলেন। দুই পরীক্ষাতেই প্রথমবারে উত্তীর্ণ হলেও তার মতে, দুটি পরীক্ষা তাকে গাড়ি চালানোর বাস্তবতার জন্য সমানভাবে প্রস্তুত করেনি। বাংলাদেশের সড়কব্যবস্থার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাইমা রহমান বলেন, অনেক তরুণ বাংলাদেশির মধ্যে একটি মৌলিক হতাশা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা করা হলেও যে ব্যবস্থার মধ্যে তাদের চলতে হয়, সেটি সব সময় নিরাপদ বা অনুমানযোগ্য মনে হয় না।


তিনি বলেন, পথচারীদের অনেক সময় পর্যাপ্ত পারাপারের ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যস্ত সড়ক পার হতে হয়। কোথাও ফুটপাত হঠাৎ শেষ হয়ে যায়, আবার কোথাও তা দখল হয়ে থাকে। একই সঙ্গে বাস, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির ভিড়ের মধ্য দিয়ে পথ চলতে হয়, যেগুলো অনেক সময় ভিন্ন ভিন্ন অলিখিত নিয়মে চলে। যাত্রীদের অসহায় অবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একটি বাস অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে কি না, হঠাৎ ব্রেক করবে কি না, গাড়িটির যান্ত্রিক সক্ষমতা ঠিক আছে কি না কিংবা চালক যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম পেয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে যাত্রীর কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।


নতুন চালকদের জন্য নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাইমা। তার প্রশ্ন, নিয়মগুলো আসলে কী এবং সবার জন্য তা কেন একই রকম মনে হয় না? অনলাইনে সেবা চালু থাকার পরও কেন অনেক কাজের জন্য শেষ পর্যন্ত কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করতে হয়? আবার মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কাজ দ্রুত হয়ে যায় কেন?


তিনি বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের অনেক সেবা ডিজিটাল করা হয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে কোনো প্রক্রিয়া অনলাইনে শুরু করার পর তার সমাধানের জন্য যদি শেষ পর্যন্ত কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করতে হয়, তাহলে সেটিকে পুরোপুরি কার্যকর ডিজিটাল সেবা বলা যায় না। তার মতে, অপ্রয়োজনীয় সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ থাকলে দেরি, পক্ষপাত এবং লেনদেনের নতুন সুযোগ তৈরি হয়। মধ্যস্থতাকারীরা এই দুর্বলতার সুযোগ নেয়। ফলে মানুষ আইন ভাঙতে চায় বলে নয়, বরং সরকারি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে যাওয়ার কারণে মধ্যস্থতাকারীর সাহায্য নেওয়াকে সহজ পথ মনে করে।


আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন জাইমা রহমান। তার ভাষ্য, লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, চালকের প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ভালো আইন থাকলেও তা যদি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ না হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা কমে যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন নতুন চালককে কঠোরভাবে নিয়ম মানতে বলা হলেও তার চোখের সামনে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালনা এবং বিভিন্ন আইন লঙ্ঘন চলতে থাকলে তিনি কেন নিয়মের প্রতি আস্থা রাখবেন?


দুর্নীতির প্রসঙ্গে জাইমা বলেন, সমস্যা শুধু অন্যায় সংঘটিত হওয়া নয়, অন্যায়ের প্রতিকার কীভাবে হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যদি মনে করে অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না, বরং নিজের ভোগান্তি বাড়বে, তাহলে পরিচিত কাউকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বাড়বে। সড়ক নিরাপত্তাকে শুধু গাড়ি, লাইসেন্স ও শাস্তির বিষয় হিসেবে না দেখে সাধারণ মানুষের জীবন ও বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। একজন শিক্ষার্থী, নারী, খাবার সরবরাহকারী কর্মী, বাসচালক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিংবা রিকশাচালকের কাছে একই সড়কের অভিজ্ঞতা এক নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


জাইমা রহমান বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে তরুণেরা দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছেন। ২০১৮ সালে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে লাইসেন্স পরীক্ষা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। আট বছর পরও সেই উদ্বেগের অনেকটাই রয়ে গেছে।


সবশেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সমস্যা চিহ্নিত হওয়ার পরও কেন তা সমাধান হচ্ছে না। তার মতে, শুধু নাগরিকদের কীভাবে নিয়ম মানানো যাবে—এই প্রশ্ন যথেষ্ট নয়। বরং সবার জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করা, আইন প্রয়োগে ন্যায্যতা ও ধারাবাহিকতা আনা, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা তৈরি করা এবং এমনভাবে সড়ক পরিকল্পনা করা প্রয়োজন, যাতে একটি সাধারণ ভুলের কারণে মানুষের জীবনহানি না ঘটে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯