এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষার ফলাফল কোনো শিক্ষার্থীর পরিচয় নির্ধারণ করে না; এটি কেবল নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষার খাতায় লেখা উত্তরের একটি মূল্যায়ন। মঙ্গলবার নিজের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক বার্তায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, ফল প্রকাশের দিনটি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্ট ও হতাশার হতে পারে। বন্ধুর আনন্দ, পরিবারের নীরবতা, আত্মীয়-স্বজনের তুলনা এবং আশপাশের মানুষের নানা প্রশ্নে অনেকের মনে হতে পারে, তাদের সবকিছু যেন থেমে গেছে। তবে বাস্তবে কিছুই থেমে যায়নি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পরিশ্রম, স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে কোনো পরীক্ষার নম্বর দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। আজকের ফলাফল তার পরিচয় নয়। বরং এটি একটি নির্দিষ্ট দিনে কয়েক ঘণ্টার পরীক্ষায় খাতায় লেখা উত্তরের হিসাব মাত্র।
অভিভাবকদের প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এ সময় সবচেয়ে বেশি ভয় পেতে পারে বাবা-মায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে। তাই তাদের বকাঝকা বা ভর্ৎসনা না করে ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সাহস দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে একটি কঠিন কথা বা অবহেলার চেয়ে সন্তানের প্রয়োজন একটু আদর ও স্নেহময় কথা। ঘরকে সন্তানের জন্য বিচারের জায়গা না বানিয়ে আশ্রয়ের জায়গা করে তুলতে হবে।
শিক্ষকদেরও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কেন কোনো শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়েছে, সেই কারণ খুঁজে বের করার দায়িত্ব শিক্ষকদেরও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর মতে, ব্যর্থতার দায় শুধু শিক্ষার্থীর ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তাদের জীবনের গল্প এখনো শেষ হয়নি। বরং সামনে রয়েছে আরও অনেক সুযোগ। ভবিষ্যতে সফল হওয়ার পর তারা হয়তো আজকের দিনটির দিকে ফিরে তাকিয়ে মনে করবে, সেদিন অযথাই হতাশ হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, একদিন এসব শিক্ষার্থীই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের সেই পথচলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাশে আছে এবং থাকবে। এর আগে সোমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় ফল প্রকাশের দিন অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। তবে ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগও রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করে পরীক্ষার্থীরা তাদের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ নিতে পারবেন।