সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এসএসসি পরীক্ষায় এবারও তাক লাগানো ফল করেছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮২ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে এবং প্রত্যেকেই পেয়েছে জিপিএ-৫। সোমবার সকাল ১০টায় ফল প্রকাশের পরপরই আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। কেউ নেচে, কেউ গান গেয়ে আবার কেউ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করেন। অনেক অভিভাবক সন্তানদের সাফল্য উদযাপন করতে সঙ্গে করে মিষ্টি নিয়ে আসেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রম, নিয়মিত পাঠদান, বিশেষ ক্লাস এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যক্তিগত নজরদারির কারণেই এমন অসাধারণ ফলাফল সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি নিয়মিত টিউটোরিয়াল ও মাসিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিলয় দেবনাথ বলেন, তার সঙ্গে বিদ্যালয়ের সব বন্ধুই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এমন ফলাফলের পর সবাই একসঙ্গে আনন্দ করছেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের কষ্ট ভুলে গিয়ে এখন শুধু আনন্দই অনুভব করছেন তারা। সন্তানদের ফলাফলে মা-বাবাও অত্যন্ত খুশি বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফল করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৭৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের প্রত্যেকেই জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটির ৩২০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল। অর্থাৎ টানা দুই বছর প্রতিষ্ঠানটির সব পরীক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফল অর্জন করল।
এর আগের ফলাফলও ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালে ২৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৯৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০২৩ সালে ২৭৮ জনের মধ্যে ২৭০ জন, ২০২২ সালে ২৬৬ জনের সবাই, ২০২১ সালে ২৪৭ জনের মধ্যে ২৩৭ জন এবং ২০২০ সালে ২১৪ জনের মধ্যে ২০০ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে। এ ছাড়া ২০১৯ সালে ১৭১ জনের মধ্যে ১৬৮ জন, ২০১৮ সালে ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৭ জন এবং ২০১৭ সালে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৬৪ জনের সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক এই সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, বাড়তি ক্লাস এবং ব্যক্তিগতভাবে তাদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের এই মডেলটি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।