শেরপুর জেলা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি উদ্ধার করা যায়নি

দুই বছরেও ধরা পড়েনি শেরপুর কারাগারের ৩৪৫ পলাতক বন্দি, উদ্ধার হয়নি ১১৪৩ রাউন্ড গুলি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১১ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১০:৫ সময় , আপডেট সময় : ১১ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১০:৫ সময়

শেরপুর জেলা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি উদ্ধার করা যায়নি পলাতক বন্দি ও লুট হওয়া গোলাবারুদ। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৫১৮ বন্দির মধ্যে ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও ৩৪৫ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। একই ঘটনায় লুট হওয়া বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলিরও কোনো সন্ধান মেলেনি।


জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত শেরপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর কারাগারের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে কারাগারে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগে অস্ত্র, গোলাবারুদ, নজরদারি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। একই সময়ে কারাগার থেকে ৫১৮ জন বন্দি পালিয়ে যায়।


ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও এখনো ৩৪৫ জনকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, কারাগার থেকে লুট হওয়া নয়টি অস্ত্র পরবর্তী সময়ে উদ্ধার করা হলেও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। কারাগার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, লুট হওয়া চায়না রাইফেলের ৮৪৪ রাউন্ড গুলির একটিও উদ্ধার হয়নি।


এ ছাড়া শটগানের ৩৩১ রাউন্ড গুলির মধ্যে মাত্র ৩২টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফলে চায়না রাইফেল ও শটগান মিলিয়ে মোট ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আইনজীবী ও শিক্ষাবিদরা। শেরপুর জেলা জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর কিবরিয়া কামরুল বলেন, পলাতক বন্দিদের মধ্যে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিও রয়েছেন। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।


শেরপুর মডেল ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক দেলোয়ারা সোহেলী বলেন, পলাতক অপরাধীদের পাশাপাশি খোয়া যাওয়া গোলাবারুদ দ্রুত উদ্ধার করা জরুরি। অন্যথায় জেলার পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত করা কঠিন হতে পারে এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরাও পলাতক বন্দিদের গ্রেপ্তার এবং নিখোঁজ গোলাবারুদ উদ্ধারে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।


শেরপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শাহ্ রফিকুল ইসলাম জানান, ৮৪৪ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি এবং শটগানের ২৯৯ রাউন্ডসহ মোট ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলির কোনো হদিস এখনো পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ৩৪৫ জন বন্দিও পলাতক রয়েছেন। শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং খোয়া যাওয়া গোলাবারুদ উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রায় দুই বছর পরও শত শত বন্দি ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পলাতক বন্দিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং নিখোঁজ গোলাবারুদ উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯