জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণের দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে

জ্বালানি তেল আমদানি বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ স্থগিত চায় জামায়াত

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ৩:২৯ সময় , আপডেট সময় : ৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ৩:২৯ সময়

জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণের দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, এ ধরনের পদক্ষেপ সংস্কারের পরিবর্তে জ্বালানি খাতে কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করতে পারে। শনিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, সব ধরনের বেসরকারিকরণের বিরোধিতা করা হচ্ছে না। তবে কোনো খাত বেসরকারি পর্যায়ে হস্তান্তরের মাধ্যমে যদি দুর্নীতি, অনিয়ম, সিন্ডিকেট বা লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে তার প্রতিবাদ করা জরুরি। মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি থেকে শুরু করে মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে শেষ পর্যন্ত এর বাড়তি চাপ সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে পারে।


জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, জ্বালানি তেল আমদানির জন্য গভীর সমুদ্রবন্দর, বড় মজুতাগার, পাইপলাইন, তেল পরিবহনের অবকাঠামো এবং বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। এসব সক্ষমতা দেশের হাতে গোনা কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর রয়েছে। ফলে সরকারি একচেটিয়া ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে বেসরকারি একচেটিয়া ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


দলটির অভিযোগ, জ্বালানি খাত পুরোপুরি বেসরকারি পর্যায়ে চলে গেলে এই খাতের ওপর রাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় জবাবদিহিও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বিপিসিকে অদক্ষ বা লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে বেসরকারিকরণের পক্ষে যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেটিও প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত। দলটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন প্রায় ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।


সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ স্থগিত করা, প্রস্তাবিত নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করা এবং জনসাধারণের মতামতের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া। এ ছাড়া সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানির আয়োজন, বিপিসির সংস্কার, স্বাধীন নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু, পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং জ্বালানি তেলের আমদানি মূল্য ও পরিমাণ নিয়মিত প্রকাশের দাবি জানিয়েছে দলটি।


একই সঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের আইনি সুরক্ষা খর্ব করার উদ্যোগ প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়েছে। জামায়াতের নেতারা বলছেন, জ্বালানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় বেসরকারিকরণের নামে নতুন ধরনের একচেটিয়া ব্যবসার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯