সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের সদ্য স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরান কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে তৈরি করা হয়নি: তুরস্ক

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১০:১ সময় , আপডেট সময় : ৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১০:১ সময়

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের সদ্য স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরান কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, চুক্তিতে ইরানসহ কোনো দেশকে যৌথ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। ফলে এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক জোট হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।


মক্কায় শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


হাকান ফিদান জানান, চুক্তিটি ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আদলে তৈরি হলেও কোনো দেশে হামলা হলে অন্য দুই দেশ ঠিক কী ধরনের সহায়তা দেবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। সম্ভাব্য সহায়তার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক রসদ সরবরাহ, গোলাবারুদ দেওয়া কিংবা প্রয়োজনে সেনা মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে বলে জানান তিনি। চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় গঠন এবং রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা ভাগাভাগির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এই চুক্তির প্রস্তুতি নিতে প্রায় দুই বছর আট মাস সময় লেগেছে। তাই সাম্প্রতিক ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এটি করা হয়নি। ভবিষ্যতে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোতে মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


তবে তুরস্কের আশ্বাসের পরও চুক্তিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান ও ইব্রাহিম রেজাই চুক্তিটিকে ‘কাগুজে চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তারা সৌদি আরবকে নিরাপত্তার জন্য নতুন অংশীদারদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছেন।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সরাসরি এই চুক্তি নিয়ে মন্তব্য না করলেও আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, তুরস্কের পক্ষ থেকে চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় বলে স্পষ্ট করা হলেও ইরানের কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়ায় বোঝা যাচ্ছে, নতুন এই প্রতিরক্ষা উদ্যোগকে ঘিরে তেহরানের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


সূত্র: আল জাজিরা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯