মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিধি ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। এই উদ্যোগে পরবর্তী সময়ে মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুরস্কের সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর সম্পাদকীয় ডেস্ক অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
হাকান ফিদান জানান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের লক্ষ্য হলো বর্তমান তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতাকে ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত করা। প্রয়োজন অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশকেও এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান চুক্তিটি তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় আরও দেশকে এতে যুক্ত করা হতে পারে। তবে এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ এবং এর সঙ্গে কোনো ধরনের সম্প্রসারণবাদী উদ্দেশ্য নেই।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সম্ভাব্য নতুন অংশীদারদের মধ্যে মিসরের নাম বিশেষভাবে বিবেচনায় রয়েছে। অর্থাৎ, পরবর্তী পর্যায়ে মিসরও এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় যুক্ত হতে পারে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
তবে চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট অভিন্ন শত্রু বা হুমকিকে চিহ্নিত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন হাকান ফিদান। একই সঙ্গে তিনি জানান, চুক্তির অংশ হিসেবে তিন দেশের মধ্যে সামরিক মহড়া, প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতায় নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতার সঙ্গে নতুন অংশীদার যুক্ত হলে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।