শিশুদের নিরাপত্তা ও অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দেওয়ার

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে ৭ হাজার কোটি টাকা জরিমানা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৮ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪৭ সময় , আপডেট সময় : ৮ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪৭ সময়

শিশুদের নিরাপত্তা ও অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার দেওয়া রায়ে বিচারক ব্রায়ান বিয়েডশেইড মেটার কার্যক্রমকে ‘জনদুর্ভোগের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ ভবিষ্যতে শিশুদের ক্ষতির ঝুঁকি কমানোর জন্য একটি তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


এই মামলায় এর আগে মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। নতুন জরিমানার অর্থ যোগ হওয়ায় এই মামলায় মেটার মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার। বিচারক মেটার সঙ্গে একটি কারখানার তুলনা করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন কনটেন্ট যদি কারখানার পণ্যের মতো হয়, তাহলে শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণ সেই কারখানার দূষণের মতো, যা বন্ধ করা প্রয়োজন।


মেটার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডস। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে। মেটার এক মুখপাত্র আদালতের রায়ের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখতে মেটা নিয়মিত কাজ করছে এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি স্বচ্ছ।


২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর কয়েকজন আইনজীবী মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফরম শিশুদের ক্ষতিকর উপাদান এবং যৌন শিকারিদের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। মামলার প্রথম ধাপে আদালত দেখতে পান, মেটা নিউ মেক্সিকোর ভোক্তা সুরক্ষা আইন একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির সুপারিশমূলক ব্যবস্থা কম বয়সি ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।


সুপারিশমূলক ব্যবস্থা হলো এমন প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও আচরণ বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কনটেন্ট তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপের রায়ে বিচারক বিয়েডশেইড বলেন, শিশুদের ওপর মেটার প্ল্যাটফরমগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব এখন আর শুধু অনলাইন প্ল্যাটফরমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে।


তিনি আরও বলেন, কোনো কারখানা থেকে বের হওয়া বিষাক্ত দূষণ যেমন সাধারণ মানুষের ক্ষতি করতে পারে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাবও বৃহত্তর সমাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসেও একই ধরনের একটি মামলায় মেটা পরাজিত হয়েছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের নিরাপত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা চলমান রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯