মানুষের সঠিক পথের সন্ধান ও হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। এই মহাগ্রন্থে মানুষের জন্য কল্যাণ-অকল্যাণ, ভালো-মন্দ এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে এমন কিছু মানুষের পরিচয়ও দেওয়া হয়েছে, যাদের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথমত, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত। কোরআনে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে, আল্লাহ যেসব সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টি করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।—সুরা বাকারা, আয়াত ২৭।
দ্বিতীয়ত, যারা আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে তারাও চরম ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করে, সে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়।—সুরা নিসা, আয়াত ১১৬।
তৃতীয়ত, আল্লাহর আয়াত অস্বীকারকারীদেরও ক্ষতিগ্রস্ত বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা তাঁর আয়াতকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।—সুরা আরাফ, আয়াত ৯।
চতুর্থত, যারা পরকাল ও আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎকে অস্বীকার করে, তাদের ব্যাপারেও কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। কোরআনে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎকে মিথ্যা মনে করেছে, তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।—সুরা আনআম, আয়াত ৩১।
পঞ্চমত, যারা নিজেদের পাশাপাশি নিজেদের পরিবার-পরিজনকেও পরকালের ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়, তাদের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, কিয়ামতের দিন যারা নিজেদের এবং নিজেদের পরিবারকে ক্ষতির মধ্যে ফেলবে, তারাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত।—সুরা জুমার, আয়াত ১৫।
ষষ্ঠত, ইমান, সৎকর্ম, সত্যের উপদেশ ও ধৈর্য থেকে দূরে থাকা মানুষও প্রকৃত ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। সুরা আসরে আল্লাহ তায়ালা সময়ের শপথ করে বলেছেন, মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা ছাড়া, যারা ইমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।—সুরা আসর, আয়াত ১-৩।
অর্থাৎ কোরআনের দৃষ্টিতে প্রকৃত ক্ষতি শুধু অর্থ-সম্পদ, সম্মান বা দুনিয়াবি সুযোগ হারানোর নাম নয়। বরং সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো ইমান হারানো, আল্লাহর অবাধ্য হওয়া, শিরকে জড়িয়ে পড়া, তাঁর আয়াত অস্বীকার করা এবং পরকালকে অস্বীকার করা। অন্যদিকে ইমানের ওপর অটল থাকা, সৎকর্ম করা, সত্যের পথে আহ্বান জানানো এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ করাই হলো প্রকৃত সফলতার পথ। তাই দুনিয়ার সাময়িক লাভ-ক্ষতির পাশাপাশি প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের পরকালের অবস্থান নিয়েও সচেতন হওয়া।