যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি এবং সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে মতবিরোধের অভিযোগ সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে

অস্ত্র-সংকট সম্পর্কে জানতেন না ট্রাম্প, হেগসেথের সঙ্গে বাগ্‌যুদ্ধে জড়ান প্রেসিডেন্ট

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৬ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৬:১৯ সময় , আপডেট সময় : ৬ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৬:১৯ সময়

যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি এবং সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে মতবিরোধের অভিযোগ সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে সামরিক পরিকল্পনা, অস্ত্রের মজুত এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউস ও প্রতিরক্ষা দপ্তর এসব দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।


এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত সম্পর্কে ব্যাখ্যা চান। সেখানে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদের প্রাপ্যতা নিয়ে তীব্র আলোচনা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইন্টারসেপ্টরের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এ তথ্য প্রত্যাখ্যান করে জানানো হয়েছে, দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রভাণ্ডার পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।


হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের খবরকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে এবং দেশের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।


প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে এখনো স্পষ্ট ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা—কোন লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত করার বিষয়েও অগ্রগতি হতে পারে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। যদিও ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার কাজ এগিয়ে চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকট, সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক আলোচনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার—উভয়ের ওপরই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯