জাতীয় সংসদে বিরোধী জোটের অংশগ্রহণ ছাড়াই সংবিধান সংশোধনের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন জোট। এ লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে কমিটির কার্যপরিধি, কর্মপদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের শুরুতে সদস্যদের পরিচিতি পর্ব শেষে সংবিধান সংশোধনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে সংশোধনী-সংক্রান্ত সুপারিশ প্রস্তুতের মূল আলোচনা শুরু হবে।
এর আগে চলতি সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির দায়িত্ব হলো প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনের সুপারিশ তৈরি করে সংসদে প্রতিবেদন দাখিল করা। তবে সেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। সরকারি পক্ষ বিরোধী জোটকে কমিটিতে পাঁচজন প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানালেও তারা কোনো নাম জমা দেয়নি। কমিটি গঠনের দিনই বিরোধী সদস্যরা এ উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। তাদের দাবি, কেবল সংশোধন নয়, বরং সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্রয়োজন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। এ উদ্দেশ্যে বিচার বিভাগ, আইনজ্ঞ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীতে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
অন্যদিকে বিরোধী জোটের অবস্থান, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য পৃথক সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনই হওয়া উচিত। তাদের মতে, বিদ্যমান বিশেষ কমিটি সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী জোটের অংশগ্রহণ ছাড়া সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে এ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী পক্ষের অবস্থান আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।