সিঁড়ি বেয়ে উঠতে, দ্রুত হাঁটতে বা সামান্য শারীরিক পরিশ্রমেই যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তাহলে সেটিকে শুধু বয়স, ওজন বা দুর্বলতার সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উপসর্গ অনেক সময় হৃদরোগ, ফুসফুসের জটিলতা, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা কিডনির রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, আগে যে কাজ সহজে করা যেত, এখন সেই কাজ করতে গিয়ে যদি হঠাৎ হাঁপিয়ে যেতে হয় বা শ্বাসকষ্ট ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা শুরু হওয়ার আগেই শ্বাসকষ্ট হৃদরোগের প্রথম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু লক্ষণ দেখে শ্বাসকষ্টের কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই রোগীর শারীরিক ইতিহাস, অন্যান্য উপসর্গ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে হয়। প্রাথমিকভাবে রক্তচাপ পরীক্ষা, হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যক্রম পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে, রক্তস্বল্পতা, রক্তে শর্করা, থাইরয়েড, কিডনি ও যকৃতের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
হৃদরোগের সন্দেহ থাকলে হৃদযন্ত্রের আল্ট্রাসাউন্ড, হাঁটার সময় হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের পরীক্ষা কিংবা হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীর বিশেষ স্ক্যানের মতো পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। আবার ফুসফুসের সমস্যা সন্দেহ হলে শ্বাসযন্ত্রের কার্যকারিতা মূল্যায়নের পরীক্ষাও করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে যদি বুকে চাপ বা ব্যথা, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, পা ফুলে যাওয়া, ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া বা বিশ্রামের পরও শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, স্থূলতা এবং ধূমপানের অভ্যাস থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এসব ব্যক্তির ক্ষেত্রে নতুন করে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে বা আগের তুলনায় শারীরিক সক্ষমতা কমে গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত। তাদের মতে, সময়মতো রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা গেলে হৃদ্যন্ত্র বিকল হওয়া, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়া, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই নিজে নিজে কারণ অনুমান না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।