বাংলাদেশ ছাড়ার প্রায় দুই বছর পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এ অনুষ্ঠানে তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরাসরি মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন না। তিনি কেবল অডিও সংযোগের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার নীতির অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিকে একাধিকবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সংগঠনটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং এ বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো আপত্তি জানানো হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নয়াদিল্লির স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা এতে অংশ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন এবং শাহ মো. বখতিয়ারের। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলন বা উন্মুক্ত গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। ফলে আসন্ন এই ভার্চুয়াল বক্তব্যকে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।