মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা–সংক্রান্ত অন্যতম প্রভাবশালী অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা মাউরিসিও ক্লেভার-ক্যারন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির নীতি নির্ধারণ, জ্বালানি খাত এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ামিভিত্তিক এই ব্যবসায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরকারি পদে না থাকলেও সরাসরি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকার পর থেকেই তিনি দেশটির বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন হিসেবে পরিচিতি পান। এ কারণে অনেকেই তাকে ‘রাজপ্রতিনিধি’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
তিনি দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই দায়িত্ব ছেড়েছেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে পদত্যাগ করতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে পর্দার আড়ালে বিভিন্ন আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। তার মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র দেশটির জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব বিস্তার করে। একই সময়ে রাজনৈতিক সংস্কার বা নতুন নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থান না নিয়ে বরং বাণিজ্যিক সহযোগিতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পুনর্গঠনের একটি বড় চুক্তি নির্দিষ্ট একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তেল খাতের বিভিন্ন সমঝোতা এবং সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যকার আলোচনার আয়োজনেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার বিদায়ের ফলে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং জ্বালানি–সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স