জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। কিন্তু সেই প্রত্যাশার পরিবর্তে দেশে এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীতে ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, ব্যাংক, বীমা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ব্যক্তিদের পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এটি রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, যারা আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, তারা শুধু একটি রাজনৈতিক শক্তির পরিবর্তে আরেকটি শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চাননি; বরং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনই ছিল তাদের প্রত্যাশা।
জামায়াত আমির আরও বলেন, আন্দোলনের সময় তাঁর দল প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পর দলটি কখনো এর কৃতিত্ব দাবি করেনি বা রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের পর দেশে চাঁদাবাজির ঘটনা শুরু হলেও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের অনেক সদস্য আর্থিক সহায়তার চেয়ে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে জুলাইয়ে নিহতদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে তিনি প্রতিশোধ নয়, আইনের মাধ্যমে বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের আদর্শ রক্ষায় শেষ পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।