শারীরিক বা অন্য কোনো সীমাবদ্ধতা যেন কোনো শিশুর স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রতিটি শিশুর মেধা ও সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব। রাজধানীতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুই হাতহীন মেধাবী তরুণী আয়েশার জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’–এর বিশেষ প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সফলতার মূল ভিত্তি হলো অধ্যবসায়, নিয়মিত অধ্যয়ন এবং নিজের প্রতি অটুট বিশ্বাস। আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে একজন শিক্ষার্থী চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, মহাকাশ গবেষক কিংবা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল পদেও পৌঁছাতে পারে। তিনি আরও বলেন, আয়েশার জীবনসংগ্রাম প্রমাণ করেছে যে দৃঢ় মনোবল থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিকেও জয় করা সম্ভব। তবে এমন সাফল্য যেন ব্যতিক্রম হয়ে না থাকে, সে জন্য সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে কোনো শিশু সুযোগের অভাবে পিছিয়ে থাকবে না এবং সবাই সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। অনুষ্ঠানে আয়েশাকে গাইবান্ধার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি তত্ত্বাবধায়ক পদে নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এই নিয়োগ মেধা, যোগ্যতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আয়েশার জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্রটি প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্নপূরণে সাহস ও অনুপ্রেরণার বার্তা তুলে ধরে।