বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া চিনির অধিকাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় পরীক্ষা করা নমুনার প্রায় ৯৫ শতাংশেই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে অজান্তেই মানুষের শরীরে এসব কণা প্রবেশ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন বাজার থেকে সংগ্রহ করা ব্র্যান্ডেড ও খোলা—উভয় ধরনের চিনির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি কেজি চিনিতে শত শত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি রয়েছে। খোলা চিনিতে দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হলেও দুই ধরনের চিনির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানগত পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
গবেষণায় শনাক্ত হওয়া কণাগুলোর বেশির ভাগই ছিল তন্তু আকৃতির। এছাড়া খণ্ড, পাতলা স্তর এবং গোলাকার কণাও পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যা উৎপাদন, পরিশোধন, প্যাকেজিং, পরিবহন ও সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত প্লাস্টিক কিংবা পরিবেশগত দূষণ থেকে খাদ্যে প্রবেশ করতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, শুধু চিনি থেকেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করতে পারেন। যদিও এই গবেষণায় সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকির চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হয়নি, তবুও কয়েকটি প্লাস্টিক উপাদান তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির ইঙ্গিত দিয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি গবেষণায় দেশের সয়াবিন তেল ও টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণের জাতীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা পরিচালনা করা জরুরি।