দেশের শিল্প খাতে চলমান গ্যাস সংকট এবং টেক্সটাইল শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত টেক্সটাইল শিল্পের সংকট নিরসনে গঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রথম সভায় গ্যাস সংকট, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং শিল্পের সার্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উদ্যোক্তারা জানান, দীর্ঘদিন সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে শিল্প খাতের বর্তমান সংকট আরও গভীর হয়েছে। তবে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগে তারা আশাবাদী। বৈঠকে টেক্সটাইল শিল্পের বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর প্রকৃত অবস্থা নিরূপণের জন্য উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য ও সুপারিশ চাওয়া হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিল্প খাতের সমস্যাগুলো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত রয়েছেন এবং দ্রুত সমাধানে তিনি আন্তরিক। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সুপারিশ দ্রুত প্রস্তুত করা যায়। অন্যদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তৈরি পোশাক ও নিট পোশাক খাতের দুই শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন সরকারকে সাময়িকভাবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সংগ্রহের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের দাবি, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে উঠছে।
যদিও গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা জানিয়েছে, খোলা সিলিন্ডারে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন সচল রাখতে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। ব্যবসায়ী নেতারা আশা করছেন, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্যাস সংকট নিরসন হলে শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক হবে এবং রপ্তানি কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।