ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে ড্রোন প্রযুক্তির একটি প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। একই দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক হামলায় আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৫ জনে পৌঁছেছে। নতুন এই হামলাকে কেন্দ্র করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, দিনের বেলায় চালানো এই হামলার সময় প্রদর্শনীস্থলে প্রতিরক্ষা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। হামলায় বহু মানুষ আহত হন এবং ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়, বাকি দুটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা এমন একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যেখানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ড্রোন প্রদর্শন করা হচ্ছিল। তাদের দাবি, সেখানে ড্রোন নির্মাতা, সামরিক ইউনিট এবং নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যারা রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। এদিকে, ইউক্রেনে এই ধরনের উন্মুক্ত সামরিক প্রযুক্তি প্রদর্শনীর নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। কে এই অনুষ্ঠানের অনুমোদন দিয়েছিলেন এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি, তা তদন্ত করছে দেশটির প্রসিকিউটর কার্যালয়।
একই দিনে পূর্বাঞ্চলের স্লোভিয়ানস্ক শহরে রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হন। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের সুমি এলাকায় পৃথক হামলায় আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সামরিক কর্তৃপক্ষ। এর আগে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া আরও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন হামলা হতে পারে।
অন্যদিকে ইউক্রেনও পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কিরভ শহরে ছয়জন নিহত ও অন্তত ২৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অনলাইন পণ্য বিতরণ প্রতিষ্ঠানের একাধিক গুদামেও হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, এসব সরবরাহকেন্দ্র রুশ সেনাবাহিনীর রসদ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকায় সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এদিকে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার কূটনৈতিক উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছে।