রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিগগিরই বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সাবেক রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংককে যেতে পারেন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, তার স্ত্রীও অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দুজন একসঙ্গেই বিদেশ সফরে যাবেন।
এর আগে তিনি স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠান। পরে স্পিকার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন। অসুস্থতাকেই পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন।
বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত কয়েক দিন ধরে তার ব্যক্তিগত মালপত্র গুলশানের বাসভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়িটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য না থাকায় সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে থাকবেন। তবে বাসভবন হিসেবে স্পিকারের সরকারি বাসভবনই ব্যবহার করবেন এবং রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বঙ্গভবন থেকে।
সরকারি সূত্র বলছে, সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালন করবেন।