বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এক নায়ক দীর্ঘদিন পর নিজের ব্যক্তিজীবনের এমন এক অধ্যায়ের কথা প্রকাশ করেছেন, যা এতদিন ভক্তদের অনেকেরই অজানা ছিল। এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি জানান, রাজধানীর একটি স্বনামধন্য পরিবারের এক তরুণীর সঙ্গে তার গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। এমনকি তাকেই জীবনসঙ্গী করার স্বপ্নও দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু নানা ভুল বোঝাবুঝি ও অভিমানের কারণে সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি। অনুষ্ঠানে কথোপকথনের সময় নায়ক বলেন, তিনি মনে-প্রাণে ওই তরুণীকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য, মেয়েটি যেমন সুন্দর ছিলেন, তেমনি ভদ্র ও সম্মানিত পরিবারের সন্তান। দুজনের মধ্যেই গভীর ভালোবাসা ছিল এবং সম্পর্কও সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল।
তবে সময়ের সঙ্গে ছোট ছোট অভিমান বড় দূরত্ব তৈরি করে। নায়কের দাবি, অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণেই সামান্য বিষয়েও মান-অভিমান হতো। একসময় সেই সম্পর্ক কীভাবে ভেঙে গেল, তা আজও তার কাছে এক রহস্য হয়েই রয়ে গেছে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জানতে চান, সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার জন্য এখনো কোনো অনুশোচনা আছে কি না। জবাবে তিনি অকপটে বলেন, আজও সেই ঘটনার জন্য তার গভীর আফসোস রয়েছে। একান্ত মুহূর্তে বসে তিনি প্রায়ই ভাবেন, জীবনের পথ কোন দিকে মোড় নিল এবং কীভাবে নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে ফেললেন।
তিনি আরও জানান, মাঝেমধ্যে এখনো সেই মানুষটির কথা মনে পড়ে। যদিও বহু বছর ধরে তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। ইচ্ছা করেও তিনি আর যোগাযোগ করার চেষ্টা করেননি। এমনকি ওই তরুণীর আগের বাসার পাশ দিয়ে যাতায়াত হলেও তার বর্তমান অবস্থার কোনো খবর তিনি জানেন না। তবুও তার বিশ্বাস, সেই মানুষটি জীবনে আরও ভালো কিছু পাওয়ারই যোগ্য ছিলেন।
জীবনের এই অপূর্ণ ভালোবাসার প্রসঙ্গ টেনে নায়ক বলেন, মানুষের সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় না। অনেক সময় এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তখন মনে হয়, কিছু সিদ্ধান্ত সৃষ্টিকর্তাই নির্ধারণ করে রাখেন। উল্লেখ্য, পরবর্তীকালে তিনি চলচ্চিত্র অঙ্গনের দুই অভিনয়শিল্পীকে ভালোবেসে সংসার গড়লেও, বর্তমানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চান না।