ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে দেখা যাচ্ছে ভিন্নধর্মী এক প্রতিবাদের চিত্র। প্রচলিত স্লোগানের পাশাপাশি মিম, রিলস, ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার এবং পপ কালচারকে হাতিয়ার বানিয়ে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তরুণরা। বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান এ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরছেন। তাদের মতে, প্রচলিত প্রতিবাদের পাশাপাশি সৃজনশীল উপস্থাপনাও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
আন্দোলনস্থলে বিভিন্ন পোস্টারে সরকারের নীতির সমালোচনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতির তুলনা এবং সামাজিক বাস্তবতাকে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। এসব পোস্টার দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে লাখো মানুষের নজর কাড়ছে। শুধু পোস্টার নয়, জনপ্রিয় চলচ্চিত্র, ভিডিও গেম ও পুরাণের বিভিন্ন চরিত্র ব্যবহার করেও তৈরি করা হচ্ছে ব্যঙ্গচিত্র ও রিলস। অনেক তরুণ ভিডিও সম্পাদনার মাধ্যমে আন্দোলনের ঘটনাগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন, যা অনলাইনে ব্যাপক সাড়া ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রজন্ম প্রতিবাদের ভাষায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। স্লোগান ও মিছিলের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মিম, ব্যঙ্গ এবং পপ কালচার ব্যবহার করে তারা নিজেদের বক্তব্য আরও দ্রুত ও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়; বরং ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার দাবিও।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিজিটাল যুগে প্রতিবাদের ধরন বদলে গেছে। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি মিম বা ছোট একটি ভিডিওও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দিল্লির এই আন্দোলন সেই পরিবর্তিত বাস্তবতারই একটি নতুন উদাহরণ।