বাবার দাফন সম্পন্ন করে রাতেই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন এবং পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের সংগ্রামী জীবনের গল্প দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবার তার উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম ড. এহছানুল হক মিলন। পাশাপাশি পরীক্ষাকালীন সময়ে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী ফারহান ইশতিয়াক ফোন করে ইকনকে মন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে যাতে ইকনকে চাকরির দায়িত্ব পালন করতে না হয়, সে জন্য আগামী দুই দিনের মধ্যে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া পরীক্ষা শেষে তার উচ্চশিক্ষাসহ ভবিষ্যৎ পড়াশোনার প্রয়োজনীয় ব্যয় বহনে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন মন্ত্রী।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারের খরচ চালাতেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। ইকন বর্তমানে তার মা ও মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভাইকে নিয়ে বাগেরহাটে মাসিক চার হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় বসবাস করেন।
বাবার মৃত্যুজনিত শোকের মধ্যেও সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে সেদিন রাতেই কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে কাজে যোগ দেন ইকন। ডিউটির ফাঁকে বুথের ভেতরেই বই নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন তিনি। পরদিন সকালে নির্ধারিত সময়েই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। একটি গণমাধ্যমে ইকনের সংগ্রামী জীবনের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এরপরই বিভিন্ন মহল থেকে তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ওঠে। সেই ধারাবাহিকতায় তার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া এবং আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী।