ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক করতে সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতেই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে আলোচনার সময় জয়শঙ্কর এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জয়শঙ্কর বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ভারত-চীন সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, দুটি বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে উভয় দেশের নিজস্ব কৌশলগত ও জাতীয় স্বার্থ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে মতপার্থক্য যেন কখনো সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব একমত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ, নতুন ভিসা ব্যবস্থা এবং সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু করার পদক্ষেপকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তিনি স্বীকার করেন, বাজারে প্রবেশাধিকার, বাণিজ্য ভারসাম্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও সমাধান প্রয়োজন। এসব বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, কেবল সরকারি পর্যায়েই নয়, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।